1. shahalom.socio@gmail.com : admin :
  2. zahangiralam353@gmail.com : Channel Inani :
শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মাতারবাড়ীতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৩, আহত ১২ জন নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবি-ইয়াবাকারবারি বন্দুকযুদ্ধে নিহত-১, বন্দুক ও ইয়াবা উদ্ধার মহেশখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আনোয়ার নামের  এক যুবকের মৃত্যু! মহেশখালীর (ভূমি)অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা(তহসিলদার)জয়নাল দুদকের হাতে আটক! কক্সবাজার ঈদগাঁও থানার শুভ উদ্বোধন রামুর ঈদগড়ে সেচ্ছাসেবক লীগের ১ নং ওর্য়াড কমিটি গঠন ২০ জানুয়ারী ঈদগাঁও থানার উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন এমপি মহেশখালীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের দুই নারী আহত,থানায় এজাহার দায়ের চট্টগ্রামে জাতীয় পার্টি’র চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপির সুস্থতা কামনায় দোয়া কর্মসূচি মহেশখালী পৌরসভায় নাগরিক সমাবেশ ও উন্নয়ন শীর্ষক আলোচনা সভায় সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন!

ওমা বেইল ত ভাতর অত্ত অয়ে আঁরে দ না ভাত গুরা পুয়া হাদি হাদি হর ধরি মরা মায়ের হাত

  • আপডেট করা হয়েছে বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২০
  • ১৬৪ বার পড়া হয়েছে

 

শিল্পী সিরাজুল ইসলাম আজাদ।

ঘূর্ণিঝড় লণ্ডভণ্ড করে দেয় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পূরো উপকূল। লাশের পরে লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল চারদিকে। বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়। দেশের মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে সেদিন প্রত্যক্ষ করে প্রকৃতির করুণ এ আঘাত। প্রাকৃতিক দূর্যোগের এতবড় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি এদেশের মানুষ এর আগে কখনো হয়নি।
পরদিন বিশ্ববাসী অবাক হয়ে সেই ধ্বংসলীলা দেখে। কেঁপে উঠে বিশ্ব বিবেক।
বাংলাদেশে আঘাত হানা ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় নিহতের সংখ্যা বিচারে পৃথিবীর ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড় গুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল রাতে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানা এ ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়টিতে বাতাসের সর্বোচচ গতিবেগ ছিল ঘন্টায় প্রায় ২৫০ কিমি (১৫৫ মাইল/ঘন্টা)। ঘূর্ণিঝড় এবং তার প্রভাবে সৃষ্ট ৬ মিটার (২০ ফুট) উঁচু জলোচ্ছ্বাসে আনুমানিক ১৩৮,০০০ জন মানুষ নিহত এবং প্রায় এক কোটি মানুষ আশ্রয়হীন হয়।

ঘূর্ণিঝড় বা ঘুর্নিবার্তা হল ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রে সৃষ্ট বৃষ্টি, বজ্র ও প্রচন্ড ঘূর্ণি বাতাস সম্বলিত আবহাওয়ার একটি নিম্ন-চাপ প্রক্রিয়া (low pressure system) যা নিরক্ষীয় অঞ্চলে উৎপন্ন তাপকে মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত করে। সাম্প্রতিক সময়ে বিজ্ঞানীরা অনেকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে দায়ী করেছেন।
ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রের তাপমাত্রা ১৯৭০ সালের পর প্রায় এক ডিগ্রী ফারেনহাইট বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই এক ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এখন আগের চেয়ে শক্তিশালী এবং বেশী সংখ্যায় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হচ্ছে।
এ ধরনের ঝড়ে বাতাস প্রবল বেগে ঘুরতে ঘুরতে ছুটে চলে বলে এর নামকরণ হয়েছে ঘুর্নিঝড়। ঘুর্নিঝড়ের ঘুর্নন উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে। ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানলে যদিও দুর্যোগের সৃষ্টি হয়, কিন্তু এটি আবহাওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা পৃথিবীতে তাপের ভারসাম্য রক্ষা করে। গড়ে পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ৮০ টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। এর অধিকাংশই সমুদ্রে মিলিয়ে যায়, কিন্ত্ত যে অল্প সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানে ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করে তার একটি ১৯৯১ সালের ঘুর্ণিঝড় ম্যারি এন।

বাংলাদেশ তথা উত্তর ভারত মহাসাগর এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয় না। তার পরিবর্তে, আরব সাগর এলাকায় উৎপন্ন ঝড়গুলোকে A এবং বঙ্গোপসাগরে উৎপন্ন ঝড়গুলোকে B অক্ষর দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। ১৯৯১ সালের ২৯ শে এপ্রিল যে ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে আঘাত হেনেছিল তার পরিচয় TC-02B হিসেবে, তার মানে এটি ছিল ১৯৯১ সালে বঙ্গোপসাগরে উৎপন্ন দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়।

সেই ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৪২ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে এর সংখ্যা আরো বেশি। মারা যায় ২০ লাখ গবাদিপশু। গৃহহারা হয় হাজার হাজার পরিবার। ক্ষতি হয় ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ। উপকূলবাসী আজও ভুলতে পারেনি সেই রাতের দুঃসহ স্মৃতি।
প্রলয়ঙ্করি এই ধ্বংসযজ্ঞের ২৯ বছর পার হতে চলেছে।
এখনো স্বজন হারাদের আর্তনাদ থামেনি। ঘরবাড়ি হারা এলাকার মানুষ এখনো বর্ষায় নির্ঘুম রাত কাটান।
ভয়াল সেই ঘূর্ণিঝড়ে স্বজনহারা মানুষদের প্রতি গভীর সমবেদনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

Designed by: Nagorik It.Com