1. shahalom.socio@gmail.com : admin :
  2. zahangiralam353@gmail.com : Channel Inani :
বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৩, ১০:১৭ অপরাহ্ন

প্রশাসনকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে উখিয়ায় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাটি কাটার মহোৎসব

  • আপডেট করা হয়েছে সোমবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ১৮৯ বার পড়া হয়েছে

 

এম আর আয়াজ রবি।

কক্সবাজারের উখিয়া মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা। ২০১৭ সালে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে বলপুর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে রোহিঙ্গা স্রোত আসার পর থেকেই অসাধু পাহাড় খেকো, বন খেকো সিন্ডিকেট চক্র তৎপর হয়ে উঠে। অসাধু প্রভাবশালী পাহাড় খেকো চক্র প্রশাসনকে এক প্রকার তোড়াই কেয়ার করে পাহাড় কেটে মাটি, ইজারার নামে নির্দিষ্ট ইজারার বাইরে গিয়ে পাহাড়ে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে এবং খালে পাম্প মেশিন বসিয়ে বালি আহরণ করে চলছে। উখিয়ার সর্বত্র এই পাহাড় কাটার ধুম থাকলেও পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী এলাকায় এর প্রভাব খুবই বেশি। বলাযায় থাইংখালী এলাকায় এমন অবৈধ মাটি ও বালি উত্তোলনের রমরমা ব্যবসা-যা ইতিমধ্যে সর্বকালের রেকর্ড ব্রেক করেছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। থাইংখালী এলাকায় ৩০ স্পটে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রায় ২৭ টি পাহাড়ে ধ্বংশযজ্ঞ চালাচ্ছে এই বালিখেকো সিন্ডিকেট চক্র।বালি ইজারাকে সাইন বোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে, ইজারার বাইরে গিয়ে একের পর এক ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে প্রাকৃতিক পেরেক খ্যাত পাহাড়গুলো কেটে সাবাড় করছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। বালি ও পাহাড় খেকোরা প্রভাবশালী মহল হবার কারনে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে তেমন কিছু করতে পারছেনা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এতে পরিবেশ বিপর্যয়সহ পাহাড় ও পরিবেশ ধ্বংশের চরম সীমায় পৌঁছেছে বলে আশংকা করছেন পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। অনেকক্ষেত্রে প্রশাসন ও বন কর্মকর্তারা বালি ও মাটি ভর্তি ডাম্পার আটক করলেও ইজারার কপি দেখিয়ে, একপ্রকার প্রভাব কাটিয়ে তা কেড়ে নিচ্ছে বলেও লোকমুখে জানা গেছে। প্রভাবশালী মহল বালি ইজারার ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি সংরক্ষিত পাহাড়ের মাটি ও বালি উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে ঢালাওভাবে। তারা যেন কিছুই মানছেনা, কারও কোন কথাই শুনছেনা। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পাহাড়, টিলা ধ্বংশ করে মাটি ও অবৈধ খাল থেকে বালি উত্তোলন করে পরিবেশ ধ্বংশ করে চলা তাদের নিত্যনৈমত্তিক কাজ।
উখিয়ার পালংখালীর থাইংখালীর তেলখোলা, মোছারখোলা, বরই তলী, মধুর ছড়া, পালংখালী খালের আগা, পেচামুরা, তৈপ্পাখালী, রিতুর খোলা, চিতাখোলা, জামবনিয়া, ফইল ফাড়িসহ প্রায় ২৭টি স্পটে পাহাড় কর্তন ও বালি উত্তোলন করছে।

স্থানীয়রা জানায়, বালি ও মাটি সিন্ডিকেটে রয়েছে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট সিন্ডিকেট কমিটি । তাদের রয়েছে দুইশ বা আড়াই শ অবৈধ ডাম্পার। সরকারি সংরক্ষিত বনভুমির ৩০টি পয়েন্টে বড় বড় পাহাড়ে ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে ও খালে পাম্প মেশিন বসিয়ে হাজার হাজার ঘনফুট বালি আহরন করে প্রতিদিন ও রাতে। যদিও বা, বালু মহাল ইজারা বিষয়ক শর্তাবলির ১৩ নং শর্তে রয়েছে, ‘বালু উত্তোলনে কোন প্রকার মেশিন ব্যবহার করা যাবে না এবং বালু মহাল সীমানায় বালু মজুদ করা যাবে না’। ১৫ নং শর্তে রয়েছে- ‘ ইজারাদার বালুমহালের আয়তন হ্রাস বা বৃদ্ধি বা ক্ষতিসাধন করতে পারবেন না’। ১৬ নং শর্তে রয়েছে,- কোন অবস্থাতেই বালু ব্যতিত মাটি বা অন্য কিছু উত্তোলন করা যাবেনা’। কিন্তু বালিমহল ইজারাদার প্রভাবশালী হওয়ায়, প্রতিনিয়ত ইজারার শর্ত ভংগ করে বালি ও মাটি আহরণ করে চলছে। সংঘবদ্ধ পাহাড় খেকোরা ঐ এলাকায় সশস্ত্র পাহারা বসিয়ে এবং সিসি ক্যামেরা দ্বারা মনিটরিং করে এসব অবৈধ কাজ কর্ম করে যাচ্ছে প্রকাশ্য দিবালোকে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর সদ্য নির্বাচিত উখিয়া উপজেলা সভাপতি সাংবাদিক আয়াজ রবি বলেন,’ উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় যেভাবে ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে পাহাড় কাটা, পাম্প মেশিনের সাহায্যে খালের বালি উত্তোলন, সংরক্ষিত বনভুমি ধ্বংশ, অবৈধ ইট ভাটাসহ বিভিন্নভাবে পরিবেশ দুষণ চলছে-আবহাওয়াবিদদের ঘোষিত আগামী ১৮/২০ বছরে বাংলাদেশের এক দশমাংশ ভুমি সমুদ্রে গর্ভে বিলীন হয়ে যাবার ঘটনা সত্য হতে চলেছে। দু;খজনক হলেও সত্য যে, এসব কাজের সাথে সমাজের প্রভাবশালী ও তথাকথিত শিক্ষিত সমাজ জড়িত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে হলে প্রত্যেককে দেশপ্রেমিক হতে হবে, এগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা জন্মাতে হবে। এসব অপকর্মে নিরোধে দেশের প্রচলিত আইনের বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। না হয় আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক অন্ধকার গহবরে নিমজ্জিত হবে এবং তারা আমাদের কোনদিন ক্ষমা করবে না’।

উখিয়া রেঞ্জের অফিসার গাজী শফিউল আলম বলেন, ‘অনেকক্ষেত্রে বালির ইজারাদার ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইজারার বাইরে গিয়েও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বালি ও মাটি কর্তন করে। আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অবৈধ মাটি ভর্তি ডাম্পার আটক করে থাকি। উখিয়া পালংখালীর থাইংখালী ও মোছার খোলা বিট এলাকায় পাহাড় খেকোদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাহাড় কাটা এলাকা গুলোতে লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে। এরুপ কয়েকটি পয়েন্ট পাওয়া গেছে যেখানে কয়েক কোটি টাকার মাটি ও বালি উত্তোলন করা হয়েছে’।

কতটি পাহাড় কাটা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,’ সঠিক চিহ্ন না থাকায় তা বলা খুবই মুশকিল। পাহাড়ের কাটা মাটিতে ইতিমধ্যে লবণ মেশানো হয়েছে। লবণ মেশানো হলে ঐ বালি ও মাটি কোথাও ব্যবহার করা যায়না বলে তা করা হয়েছে। পাহাড় কাটায় নিয়োজিত স্থানীয়দের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ টি মামলাও রুজু করা হয়েছে। পাহাড় খেকো এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিগন পাহারা বসিয়ে, সিসি ক্যামেরার সাহায্যে মনিটরিং করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকদের গতিবিধি লক্ষ্য করে এসব অপকর্ম করে আসছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এসব অপরাধের পেছনে একটি প্রভাবশালী গোষ্টির হাত রয়েছে। অন্যদিকে ইজারাকৃত যে খাল বছরে বালি উত্তোলন করে বিক্রি করে ২ লাখ টাকা পাবে না, তার ইজারা হয় ৩০ লাখ টাকা। ফলে বাধ্য হয়ে ইজারা গ্রহীতাগণ তাদের নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে অবৈধভাবে বালি/ মাটি উত্তোলন করতে বাধ্য হয়’ বলে তিনি আরো যোগ করেন।

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো সরওয়ার আলম বলেন, ‘অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধে গত শনিবার অভিযান চালানো হয়েছে। এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিপুর্বেও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এলাকাবাসী সচেতন না হলে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও এ অবস্থা থেকে পরিত্রান পাওয়া যাবেনা’।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

Designed by: Nagorik It.Com